আদালতের রায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আদালতের রায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৭ সেপ, ২০২৬

সালিশি ব্যবস্থা (Arbitration Clause) থাকলে চুক্তিগত বিরোধে সরাসরি রিট গ্রহণযোগ্য নয়: আপিল বিভাগ

সালিশি ব্যবস্থা (Arbitration Clause) থাকলে চুক্তিগত বিরোধে সরাসরি রিট গ্রহণযোগ্য নয়: আপিল বিভাগ

 ছবিঃ সংগৃহীত

চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর সালিশি (Arbitration) ব্যবস্থা নির্ধারিত থাকলে, সেই প্রতিকার গ্রহণ না করে সরাসরি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট আবেদন করা সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয় বলে রায় দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

M/S. AMS Faraj Construction v. Government of Bangladesh and others (Civil Appeal No. 47 of 2025) মামলায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেওয়া রায়ে আপিল বিভাগ এ পর্যবেক্ষণ দেন। রাইয়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় ২৪ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

কুমিল্লার দৌলতপুরে অবস্থিত চিশতি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হয় এবং লোকসানের কারণে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। মিলটি বিক্রির জন্য বিভিন্ন সময়ে দরপত্র আহ্বান করা হলেও তা সফল হয়নি।

পরবর্তীতে ১ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে ৩৫ কোটি টাকায় মিলটি বিক্রির জন্য আপিলকারী M/S. AMS Faraj Construction-এর সঙ্গে একটি চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১৫ কোটি টাকা এককালীন এবং বাকি ২০ কোটি টাকা পাঁচ কিস্তিতে পরিশোধের কথা ছিল। আপিলকারী মোট ২২ কোটি টাকা পরিশোধ করে মিলের দখল গ্রহণ করেন।

তবে পরবর্তীতে মিল বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দরপত্র ছাড়া বিক্রয়সহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়। এরপর সরকার চুক্তিটি সম্পন্ন করতে অস্বীকৃতি জানায়।

হাইকোর্টের রায় পরবর্তী আপিল

চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আপিলকারী হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট বিভাগ ১৫ জুন ২০১৫ তারিখে রায় দিয়ে সংশ্লিষ্টদের আপিলকারীকে মিলের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার সুযোগ দেওয়া, বকেয়া কিস্তি গ্রহণ এবং চুক্তি অনুযায়ী বিক্রয় দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে সরকার ও সংশ্লিষ্টরা আপিল করলে আপিল বিভাগ Civil Appeal No. 181 of 2016-এ হাইকোর্টের রায় বাতিল করেন। এরপর আপিলকারী রিভিউ আবেদন করেন এবং সেই রিভিউ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বর্তমান আপিলের সৃষ্টি হয়।

সালিশি ধারা নিয়ে আপিল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

মামলাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল চুক্তিতে থাকা সালিশি ধারা।

আপিল বিভাগ উল্লেখ করেন, পক্ষগুলোর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সালিশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। ফলে চুক্তি বাস্তবায়ন, অর্থ পরিশোধ বা অন্যান্য চুক্তিগত অধিকার নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে চুক্তিতে নির্ধারিত সালিশি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার সুযোগ ছিল।

কিন্তু আপিলকারী সেই সালিশি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে রিট এখতিয়ারের আশ্রয় নেন।

আপিল বিভাগ বলেন, কোনো চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর ও সমানভাবে কার্যকর বিকল্প প্রতিকার (equally efficacious alternative remedy) থাকলে সাধারণত সেই প্রতিকার গ্রহণ করতে হয়। বিশেষ করে চুক্তিতে সালিশি ধারা থাকলে এবং সেটি কার্যকর থাকলে, চুক্তিগত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রথমে সেই ব্যবস্থাই অনুসরণ করা উচিত।

আদালত এ বিষয়ে Bangladesh Telecom (Pvt.) Ltd. v. T&T, 48 DLR (AD) 1996 এবং Md. Mobarak Hossain v. Government of Bangladesh, VII ADC (2010) 835 মামলার নীতির ওপর নির্ভর করেন। এসব সিদ্ধান্তে চুক্তিতে নির্ধারিত কার্যকর সালিশি প্রতিকার থাকা অবস্থায় চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের জন্য রিট এখতিয়ার ব্যবহারের সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে।

চুক্তির শর্তও মানতে হবে

আপিল বিভাগ আরও বিবেচনা করেন যে, আপিলকারী চুক্তিতে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি। চুক্তি অনুযায়ী দ্বিতীয় কিস্তি ৩০ এপ্রিল ২০১৪-এর মধ্যে পরিশোধ করার কথা থাকলেও তা সময়মতো পরিশোধ করা হয়নি—যা প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে চুক্তিভঙ্গ হিসেবে উত্থাপন করা হয়।

আদালতের দৃষ্টিতে, কোনো পক্ষ চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি করলে তাকে একই সঙ্গে চুক্তির শর্ত ও নিজের চুক্তিগত দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

রিভিউ আবেদনের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা

আপিল বিভাগ আরও বলেন, রিভিউ (Review) কোনো মামলার পুনঃশুনানি নয়। রিভিউয়ের মাধ্যমে আগের সিদ্ধান্ত নতুন করে মূল্যায়ন করার সুযোগ সীমিত। রিভিউ গ্রহণের জন্য সাধারণত রেকর্ডে সুস্পষ্ট ভুল (error apparent on the face of the record) থাকতে হয়।

আদালত দেখতে পান, আপিলকারী মূলত আগের আপিলে উত্থাপিত একই যুক্তিগুলো পুনরায় উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু আগের সিদ্ধান্তে এমন কোনো সুস্পষ্ট ভুল দেখাতে পারেননি, যা রিভিউয়ের মাধ্যমে সংশোধনের প্রয়োজন তৈরি করে।

আপিল খারিজ

সবশেষে আপিল বিভাগ চুক্তির শর্ত, সালিশি ধারার অস্তিত্ব, পক্ষগুলোর আচরণ এবং রিভিউয়ের সীমিত এখতিয়ার বিবেচনায় Civil Appeal No. 47 of 2025 খারিজ করেন। একই সঙ্গে মামলায় কোনো খরচের আদেশ দেননি।

সর্বোপরি, চুক্তিতে সালিশি ধারা থাকলে বিরোধ দেখা দেওয়ার পর সেই ধারাকে উপেক্ষা করে সরাসরি রিটের আশ্রয় নেওয়া যাবে কি না, তা নির্ভর করবে বিকল্প প্রতিকারের কার্যকারিতা মামলার প্রকৃতির ওপর; তবে কার্যকর সালিশি প্রতিকার বিদ্যমান থাকলে সেটিই অনুসরণের ওপর আপিল বিভাগ বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

 

বিডিএলপিবি/মাসুম


১৫ সেপ, ২০২৬

চেকের মামলায় দণ্ডিত আসামি ৫০% অর্থ জমা না দিয়ে শুধু আপিল দায়েরের গ্রাউন্ডে জামিন পাবেন না

চেকের মামলায় দণ্ডিত আসামি ৫০% অর্থ জমা না দিয়ে শুধু আপিল দায়েরের গ্রাউন্ডে জামিন পাবেন না

ফাইল ছবি
হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন ১৮৮১ (Negotiable Instrument Act, 1881) এর  ১৩৮ ধারার অধীনে চেক প্রত্যাখ্যানের মামলায় দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি শুধু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন—এমন কারণ দেখিয়ে জামিন পাওয়ার অধিকার দাবি করতে পারবেন না। আপিল করতে হলে প্রত্যাখ্যাত চেকের অর্থের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ আদালতে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

সম্প্রতি মো. তান্দু মিয়া বনাম রাষ্ট্র ও অন্যজন, ফৌজদারি রিভিশন নং ৬৫৭৯/২০২৪ (Md. Thandu Mia vs. The State and another) মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমনের একক বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ রায়টি দেওয়া হয়।

রায়ে আদালত বলেন, হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ১৩৮ক ধারা অনুযায়ী, দেওয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রত্যাখ্যাত চেকের অর্থের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ আদালতে জমা দিতে হবে। এই শর্ত কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা আদালতের ইচ্ছাধীন বিষয় নয়; বরং আপিল করার পূর্বশর্ত (condition precedent/sine qua non)।

মামলার পটভূমি:

আবেদনকারী হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর  ১৩৮ ধারায় একটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এরপর তিনি দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার উদ্দেশ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬(২এ) ধারা অনুযায়ী জামিনের আবেদন করেন।

তবে প্রত্যাখ্যাত চেকের অর্থের ৫০ শতাংশ জমা না দেওয়ায় নিম্ন আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করেন। এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন দায়ের করেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন।
হাইকোর্টের দেওয়া ওই জামিনের সময়সীমা ছিল ৬০ দিন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও তিনি চেকের অর্থের ৫০ শতাংশ আদালতে জমা দেননি।

হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ:

আদালত বলেন,  ১৩৮ক ধারায় নির্ধারিত ৫০ শতাংশ অর্থ জমা দেওয়ার শর্তটি বাধ্যতামূলক। এটি এড়িয়ে বা পাশ কাটিয়ে দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ নেই।

আদালত আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির সাধারণ জামিনের বিধান প্রয়োগ করেও বিশেষ আইনে নির্ধারিত এই বাধ্যতামূলক শর্ত এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন একটি বিশেষ আইন এবং এর বিশেষ বিধানের সঙ্গে সাধারণ আইনের কোনো বিরোধ দেখা দিলে বিশেষ বিধানই প্রাধান্য পাবে।

রায়ে আরও বলা হয়, ৫০ শতাংশ অর্থ জমা দেওয়া এবং আপিলের অধিকার পরস্পর নির্ভরশীল ও অবিচ্ছেদ্য। ফলে এই অর্থ জমা দেওয়ার শর্ত মওকুফ করার ক্ষমতা আদালতের নেই।

এ ক্ষেত্রে হাইকোর্ট পুবালী ব্যাংক লিমিটেড বনাম চৌধুরী শামীম হামিদ, [২০২৪] ১৭ এলএম (এডি) ১২৪ (Pubali Bank Ltd. vs. Chowdhury Shamim Hamid) মামলায় আপিল বিভাগের নির্ধারিত নীতিও অনুসরণ করেন।

অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বাতিল:

চেকের অর্থের ৫০ শতাংশ জমা না দেওয়ায় হাইকোর্ট আবেদনকারীর করা রিভিশন পার ইনকিউরিয়াম (per incuriam)  ও মেরিটবিহীন হিসেবে খারিজ করেন। একই সঙ্গে আগে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রত্যাহার ও বাতিল করে দণ্ডিত ব্যক্তিকে অবিলম্বে ট্রায়াল কোর্টে আত্মসমর্পণ করে অবশিষ্ট সাজা ভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ের মূল কথা:

হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে স্পষ্ট হলো, হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করতে চাইলে ১৩৮ক ধারা অনুযায়ী প্রত্যাখ্যাত চেকের অন্তত ৫০ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হবে। এই বাধ্যতামূলক শর্ত পূরণ না করে শুধু আপিল করার ইচ্ছার ভিত্তিতে জামিন পাওয়া যাবে না।


বিডিএলপিবি/এমএম

ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের স্ত্রীর ২ বছরের কারাদণ্ড

ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের স্ত্রীর ২ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুরের স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাস কারাভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক মো. রবিউল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় কারাগার থেকে সুপর্ণা সুরকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানাসহ তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর শাহ মো. নাজমুস সাকিব।

মামলার নথি ও দুদক সূত্রে জানা যায়, জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সুপর্ণা সুরের নিজের এবং তার স্বামী এস কে সুরের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা ও আয়ের উৎসের বিস্তারিত বিবরণ চাওয়া হয়।

২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর সুপর্ণা সুর নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ নির্ধারিত ফরম গ্রহণ করেন। তবে আদেশ পাওয়ার পর নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় মামলা করেন।

মামলাটি তদন্তের পর ২০২৫ সালের ২৯ জুন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা এ এম তাহের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত সুপর্ণা সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের মোট পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে মঙ্গলবার আদালত সুপর্ণা সুরকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত-সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত-সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

ছবিঃ ফাইল
জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগের মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একজন আসামি একটি অভিযোগ থেকে খালাসও পেয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয় আসামি হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রায় পড়ার শুরুতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ কেজি।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম আরও বলেন, আসামিরা আদালতে উপস্থিত থাকলে পুরো রায় পড়ে শোনানো সম্ভব হতো। এরপর মামলার চারটি অভিযোগে কোন আসামিকে কী দণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান।

ওবায়দুল কাদেরের দণ্ড

ওবায়দুল কাদেরকে ১ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে পৃথকভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বাহাউদ্দিন নাছিম

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে ১ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। ২ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত

সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে ১ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ৩ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি।

শেখ ফজলে শামস পরশ

শেখ ফজলে শামস পরশকে ১ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল। ২ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে পৃথকভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মাইনুল হোসেন খান নিখিল

মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে ১ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে পৃথক ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেন

সাদ্দাম হোসেনকে ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে পৃথকভাবে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

ওয়ালি আসিফ ইনান

ওয়ালি আসিফ ইনানকে ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে পৃথকভাবে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ

রায়ে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন ও সাক্ষীরা

রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সোবহান তরফদার, জহিরুল আমিন, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর। এ ছাড়া মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া কয়েকজন সাক্ষীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণেও আসামিদের ভূমিকা ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলায় এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ আনা হয়। শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে ট্রাইব্যুনাল বিভিন্ন অভিযোগে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড ঘোষণা করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ যাচাইয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ যাচাইয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে পুলিশ কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় ডেটা ব্যবস্থাপনা সিস্টেম থেকে পরোয়ানার সত্যতা যাচাই করার এবং এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করে বিরোধী পক্ষকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট পিটিশন দাখিল করে। শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি রুল জারি করে এবং আরিফ নিয়াজীর গ্রেপ্তার সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গুলশান থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়।

বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ এ মাওলা সোহেলের বেঞ্চ আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ওই রুল নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছেন।

রায়ে আদালত বলেন, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গেলে কেন্দ্রীয় ডেটা ব্যবস্থাপনা সিস্টেম থেকে তার সত্যতা যাচাই করে তারপর গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শককে আদালতের এই নির্দেশনা উল্লেখ করে সার্কুলার জারি করে তা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরেকটি আদেশে আদালত সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন, জেলা জজ, মহানগর দায়রা জজ, সিজিএম, সিএমএমসহ সব নিম্ন আদালতের বিচারকদের কাছে এই মর্মে নির্দেশনা পাঠাতে হবে, যাতে যেকোনো নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করতে আইনজীবীর পেশাগত পরিচয়পত্র ও বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

রায়ে আদালত বলেন, যেকোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধিতে থাকা বিধিবিধান অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, নতুবা আইনের ব্যত্যয় ঘটবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গ্রেপ্তার হলে একজন নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়, যা নিশ্চিত করা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। আদালতের ভাষায়, বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত জরুরি, নয়তো নাগরিকের যে ক্ষতি হয় তা পূরণ করা সম্ভব হয় না।

শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে থাকা সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, গুলশানের বাসিন্দা আরিফ নিয়াজীকে ২০১২ সালে তার গুলশানের বাসা থেকে একটি ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে সোপর্দ করার পর তিনি জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে একটি ভুয়া মামলা ও ভুয়া ওয়ারেন্ট তৈরি করা হয়েছিল। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশে গঠিত একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও ভুয়া মামলার মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করার বিষয়টি প্রমাণিত হয় বলে তিনি জানান। পরবর্তী সময়ে আরও একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যে, ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে শত্রুতা চরিতার্থ করতে বিভিন্নভাবে প্রভাবশালীরা নাগরিকদের হয়রানি করছেন। এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে এইচআরপিবি রিট পিটিশন দাখিল করে এবং এ ধরনের ভুয়া ওয়ারেন্ট ও নালিশি মামলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চায়। মনজিল মোরসেদ আদালতে আরও বলেন, আইন অনুযায়ী কোনো নাগরিককে হয়রানি করার সুযোগ নেই, তবু অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে।

সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন রুলের বিরোধিতা করে বলেন, ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ডেটা সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যার কারণে ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, এই মামলাটি যেহেতু সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ দায়ের করেননি, তাই এতে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নেই বলে তার যুক্তি।

রিট পিটিশনার হিসেবে ছিল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। বিবাদী হিসেবে ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, র‍্যাবের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি, ঢাকার পুলিশ কমিশনার ও গুলশান থানার ওসিসহ মোট আটজন। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ, তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারওয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল ও অ্যাডভোকেট নাসরিন সুলতানা। সরকারপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ হুমায়ুন হোসেন তুহিন।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৪ সেপ, ২০২৬

জাল রসিদে টাকা আত্মসাৎ: ভাওয়াল রাজ এস্টেটের সাবেক হিসাবরক্ষকের ১৪ বছর জেল

জাল রসিদে টাকা আত্মসাৎ: ভাওয়াল রাজ এস্টেটের সাবেক হিসাবরক্ষকের ১৪ বছর জেল

ফাইল ছবি
দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের আওতাধীন কোর্ট অব ওয়ার্ডস ভাওয়াল রাজ এস্টেটের বহিষ্কৃত হিসাবরক্ষক ইমামুল বাশার ওরফে মিলনের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের স্টেনোগ্রাফার সোহানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার রায়: সরকারি কর্মচারী হয়ে অপরাধমূলক অসদাচরণের দায়ে তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এই টাকা কোর্ট অব ওয়ার্ডস ভাওয়াল রাজ এস্টেটের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জাল কাগজপত্র তৈরি করে সেটি আসল হিসেবে ব্যবহারের দায়ে তাকে আরো ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে, অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পৃথক দুই ধারার সাজা একত্রে চলবে। এ ক্ষেত্রে তাকে সাত বছর কারাভোগ করতে হবে।

মামলার প্রেক্ষাপট: মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির আশ্রয় নেন। তিনি ভুয়া জমা ভাউচার তৈরি করে তা খাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেন। ২০১৫ সালের ৯ নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত ভূমি সংস্কার বোর্ড থেকে ঋণ আদায় বাবদ মোট ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা পাওয়া যায়। ওই অর্থ ভাওয়াল রাজ এস্টেটের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন তিনি।

এ ঘটনায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপসহকারী পরিচালক আবুল কালাম ২০২১ সালের ৯ জুন ইমামুল বাশারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০২৩ সালের ২২ মার্চ মামলার তদন্ত শেষে কমিশনের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরের বছরের ১১ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালতে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: কালের কণ্ঠ (১৩.০৯.২০২৬)

১৩ সেপ, ২০২৬

আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ

আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ

ছবি: সংগৃহীত 
আওয়ামী লীগ ও এর সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ আদেশ দেন বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

পরে সাংবাদিকদের কাছে আওয়ামীপন্থি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত নূরনবী বুলবুল বলেন, আমরা আদালতে বলেছি রিটকারী ব্যক্তি মো. আল আমিন আওয়ামী লীগের কেউ নয়। তার এ ধরনের রিট করার অধিকার নেই। রিটের পক্ষে আইনজীবী ইউনূস আলীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।

এর আগে, গত ৭ সেপ্টেম্বর এ রিট দায়ের করেন মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা মো. আল আমিন। রিটের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউনূস আলী।

রিট আবেদনে ২০২৫ সালের ১২ মের প্রজ্ঞাপন জারি কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়। রুল হলে তা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ১২ মের প্রজ্ঞাপনটির কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে গত বছরের ১২ মে ওই প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।

এতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ ও এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: অনলাইনে প্রদত্ত আইনজীবীর সাক্ষাৎকার 

হাইকোর্টের কোনো রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল-অবরোধ করা যাবে না

হাইকোর্টের কোনো রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল-অবরোধ করা যাবে না

ফাইল ছবি
হাইকোর্টের কোনো রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে বাস মালিক সমিতি, সড়ক পরিবহন সমিতির নামে কোনো হরতাল অবরোধ করা যাবে না বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি শশাঙ্ক কুমার সরকার ও বিচারপতি ফয়সল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সব নির্বাহী ও বিচারিক কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের রায় ও আদেশ পালন করতে বাধ্য। কোনো রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষের আপিল বা আইনানুগ প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল, ধর্মঘট বা কর্মবিরতি আহ্বান করা আইনসম্মত নয়।

আদালত আরও বলেছে, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মসূচি বিচার বিভাগের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনসহ (বিআরটিসি) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদালতের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১১ সালের আগস্টে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ‘ডিলাক্স পরিবহন’-এর একটি বাসের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, সাংবাদিক ও সম্প্রচারক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাসচালকের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত সাজা প্রদান করে।

ওই সাজাকে কেন্দ্র করে বাস মালিকেরা পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল আহ্বান করেন। এ-সংক্রান্ত সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে রিট দায়ের করে।

রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ১ মার্চ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ রুল জারি করে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট ও হরতাল প্রত্যাহার এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের ওই নির্দেশের পরদিন পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

পরে ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয় বিচারপতি শশাঙ্ক কুমার সরকার ও বিচারপতি ফয়সল হাসান আরিফের বেঞ্চে। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রুলটি অ্যাবসোলিউট ঘোষণা করে এ রায় দেয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

জোরপূর্বক পদত্যাগ পত্রের আইনি বৈধতা নেই : হাইকোর্টের রায়

জোরপূর্বক পদত্যাগ পত্রের আইনি বৈধতা নেই : হাইকোর্টের রায়

ফাইল ছবি
কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে জোর করে নেওয়া পদত্যাগপত্রের আইনগত কোনো বৈধতা নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া শিক্ষককে অবিলম্বে স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ‘মো. আলকাছ উদ্দিন আহমেদ বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় হাইকোর্ট এ রায় দেন।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের গোলাম নবী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলকাছ উদ্দিন আহমেদকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২০ আগস্ট রুল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া, পর্ষদের সভাপতিকে অপসারণ এবং প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এমপিও বন্ধের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

রায়ে আদালত বলেন, রিটকারীর পদত্যাগপত্র স্বেচ্ছায় বা নিজের ইচ্ছায় দেওয়া হয়নি; বরং তার স্বাক্ষর জোরপূর্বক নেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের পদত্যাগের কোনো আইনগত বৈধতা নেই। আইন বা বিধিও জোরপূর্বক কিংবা চাপের মুখে নেওয়া পদত্যাগকে সমর্থন করে না।

মামলার প্রেক্ষাপট: মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মো. আলকাছ উদ্দিন আহমেদ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গোলাম নবী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট একদল দুষ্কৃতকারী তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোরপূর্বক একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এর পরদিন তিনি কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান। একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছেও আইনি প্রতিকার ও হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেন।

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আলকাছ উদ্দিন আহমেদকে স্বপদে বহাল করার নির্দেশ দেয় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। তবে সেই নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতিকার চেয়ে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি জোর করে নেওয়া পদত্যাগপত্রের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন আদালত। পরে গত ২০ আগস্ট রুল নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত রায় দেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ: রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, রিট আবেদনকারীর পদত্যাগের কোনো আইনগত বৈধতা ছিল না। তিনি ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত এমপিওর মাধ্যমে বেতন-ভাতা পেয়ে আসছিলেন। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ তাকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন ও চাকরিতে বহাল রাখতে আইনিভাবে বাধ্য ছিল। ফলে তিনি অবিলম্বে পুনর্বহালের অধিকারী।

আদালত আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হিসেবে শিক্ষা বোর্ডের এখতিয়ার রয়েছে ম্যানেজিং কমিটির প্রস্তাবিত যেকোনো শৃঙ্খলামূলক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা পর্যালোচনা, অনুমোদন, সংশোধন বা বাতিল করার। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও বোর্ডের রয়েছে।

তাই শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রতি জারি করা নির্দেশনা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। এসব নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে পালন না করা অসদুপায়, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল বলেও মন্তব্য করেন আদালত।

হাইকোর্ট বলেন, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্টরা আইনগতভাবে বাধ্য। তাদের নিষ্ক্রিয়তা, প্রশাসনিক অবহেলা এবং সংবিধিবদ্ধ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা রিটকারীর বৈধ অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

আদালত সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে রিট আবেদনকারীকে স্বপদে পুনর্বহাল নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হলে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

এর মধ্যে ম্যানেজিং কমিটি বাতিল, কমিটির সভাপতিকে অপসারণ এবং প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এমপিও বন্ধের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও থাকতে পারে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

১০ সেপ, ২০২৬

তিন অর্থবছরে গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্টের রায়

তিন অর্থবছরে গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্টের রায়

কোলাজ ছবি 
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আগামী ৩ অর্থবছরের মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আমরা এর বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করবো।

এর আগে, গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে এনবিআরের এই কর দাবি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক একাধিক রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু রিটের রুল খারিজ করে ৩ অর্থবছরের মধ্যে সংস্থাটিকে এনবিআরের দাবিকৃত কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট ।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আইনজীবীর ব্রিফিং

অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে সম্মুখীন করা অযৌক্তিক: হাইকোর্টের রায়

অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে সম্মুখীন করা অযৌক্তিক: হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত
অবসরের পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাবেক বিচারপতি ও তাঁদের স্ত্রীদের কোনো ধরনের অতিরিক্ত পুলিশ বা গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন ছাড়াই দ্রুত সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর পাসপোর্ট-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে দায়ের করা এক রিট মামলার রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টি প্রকাশ করা হয়েছে। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন।

রায়ে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীসহ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক ও তাদের স্ত্রীদের কোনো ধরনের অতিরিক্ত গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন ছাড়াই সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেছেন, বিচারক পদে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্র তাদের মর্যাদা ও পরিচয় যাচাই করেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়ে থাকে। অবসরের পর সাধারণ পাসপোর্ট পেতে তাদের পুনরায় গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের সম্মুখীন করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।

এর আগে দায়ের করা রিট আবেদনে বলা হয়, ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও তাদের স্ত্রীগণ কূটনৈতিক পাসপোর্টের অধিকারী। বিচারকের পদ থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর এই কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে তাদের সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়। পূর্বে এসব সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রয়োজন হতো না।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট এক স্মারকে কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণকারী ব্যক্তিদের সাধারণ পাসপোর্ট পাওয়ার পূর্বে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার সন্তোষজনক প্রতিবেদনের শর্ত দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের কারণে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করলেও গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ার অজুহাতে তাকে পাসপোর্ট না দেওয়ায় তিনি বিদেশ ভ্রমণে বাধাগ্রস্ত হন। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুমতিক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের প্রোটোকল অফিসার মো. রোমান ভূঁইয়া প্রশাসনিক এই বাধা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। পরে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সেই রুল নিষ্পত্তি করে এই রায় দেওয়া হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম

৯ সেপ, ২০২৬

রুল খারিজ: ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নয়: হাইকোর্ট

রুল খারিজ: ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নয়: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার দাবিতে করা রিটের রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র করার সুযোগ থাকছে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী।

বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ রায় দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও ইলিয়াছ আলী মণ্ডল। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী।

নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, আজকের রায়ের ফলে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র করার সুযোগ থাকছে না।

জানা গেছে, ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার দাবিতে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রিটটি করেন রাজধানীর শাহজাহানপুর শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা। পরে ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ রুলটি খারিজ করে দেন আদালত।

বিডিএলপিবি/এমএম

সভ্য সমাজে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা আশা করা যায় না: নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট

সভ্য সমাজে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা আশা করা যায় না: নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট

কোলাজ ছবি
১৬ জন আসামির মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র দুজনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেছে। এই ধরনের ভুল মূল্যায়নের ভিত্তিতে দেওয়া রায় সেই হতভাগ্য ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর ওপর এক বিপর্যয়কর প্রভাব পড়েছে। সভ্য সমাজে এই ধরনের অবিবেচনাপ্রসূত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা আশা করা যায় না।

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ জনকে খালাস দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে এমন মন্তব্য করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১১২ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়।

রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের বিচারকের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শামীম, রুহুল আমিন, মাকসুদ কাউন্সিলর ও আফসারউদ্দীনের বিরুদ্ধে ন্যূনতম কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অথচ তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বিচার-বুদ্ধিহীন এ দণ্ডের কারণে এসব আসামিকে সাত বছর কনডেম সেলে থাকতে হয়েছে, যা তাদের পরিবারের ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, একটি সভ্য সমাজে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা আশা করা যায় না। ট্রাইব্যুনালের বিচারকের মধ্যে সংবেদনশীলতার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এ কারণে দণ্ডবিধি ও সাজা প্রদানসংক্রান্ত বিধিমালার মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত না করা পর্যন্ত তাকে দায়রা আদালতের বিচারিক কাজ পরিচালনা থেকে দূরে রাখা শ্রেয়।

রায়ে বলা হয়েছে, নুসরাতকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার নির্দেশ বাস্তবায়নে শাহাদাত হোসেন শামীম ও নুরউদ্দিন মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, নুসরাত মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যার জন্য শামীম, নুরউদ্দিন, জাবেদ ও জুবায়েরকে প্ররোচিত করেছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা।

নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি ‘ত্রুটিহীন’ ছিল বলেও পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত বলেন, ওই জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য এবং গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে তা উত্তীর্ণ। এতে চার ব্যক্তির সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ ছাড়া দণ্ডিত আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সত্য ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ছিল বলে রায়ে উল্লেখ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেন, রিমান্ডে আসামিদের নির্যাতন করা হয়েছিল, মামলার নথিতে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার কারণে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অবিশ্বাস্য হয়ে যেতে পারে না।

গত ২৪ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় মূল হোতা অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা ও মাদরাসার শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন শামীমের বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল রাখার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আরও চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা হলেন- মাদ্রাসাছাত্র নুরউদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ এবং উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন।


বিডিএলপিবি/এমএ

২৬ বছর আগের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে কারাগারে ১০৪ বছরের বৃদ্ধ

২৬ বছর আগের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে কারাগারে ১০৪ বছরের বৃদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত 
কিশোরগঞ্জে একটি দোকানে ডাকাতির পর দুই ব্যক্তিকে খুনের দায়ে উচ্চ আদালতের ১০ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে গেছেন ১০৪ বছরের বৃদ্ধ নুর মোহাম্মদ।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন নুর মোহাম্মদ। তবে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি মিজানুর এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘অসুস্থ বিবেচনায় নিজ খরচে পরিবহনে করে কারাগারে যাওয়ার আবেদন করেন। তবে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন।’

মামলার প্রেক্ষাপট: কিশোরগঞ্জের বড় বাজারস্থ এলাকায় দোকান মালিক মো. ফেরদৌসের দোকানে ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে ডাকাতি করতে গিয়ে মোশাররফ হোসেন ও আ. কবিরকে হত্যা করা হয়। দোকানের সিন্দুক থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা।

এ ঘটনায় ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন কিশোরগঞ্জ থানার এসআই আনোয়ার হোসেন। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলার বিচার চলাকালে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে মামলার বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া মারা যান।

পরে ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। নুর মোহাম্মদের ১০ বছরের সাজা হয়।

মঙ্গলবার বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন চান নুর মোহাম্মদ। তারপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফয়সাল আহমেদ। শুনানিতে তিনি জানান, তার বয়স ১০৪ বছর। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। তাকে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয়। তিনি জটিল রোগে আক্রান্ত। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। এর আগে মামলায় নুর মোহাম্মদ হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক হন। রায়ের সময় তিনি পলাতক ছিলেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৯.০৯.২০২৬)

চেক ডিজঅনার মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

চেক ডিজঅনার মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত 
নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট (এনআই অ্যাক্ট), ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় দায়েরকৃত চেক ডিজঅনার মামলায় চেকে উল্লেখিত আর্থিক দায় সম্পূর্ণরূপে পরিশোধিত হলে এবং পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আপোস সম্পাদিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো বা বিনাশ্রম/সশ্রম কারাদণ্ড বহাল রাখা সমীচীন নয় বলে রায় দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেছেন, চেক ডিজঅনারের মামলার মূল উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া বা কারাবন্দি রাখা নয়; বরং মূল উদ্দেশ্য হলো পাওনা টাকা আদায় নিশ্চিত করা।

রায় সম্পর্কিত তথ্য: এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দায়ের করা চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত এক ক্রিমিনাল আপিল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। মো. আবদুল হান্নান মাস্টার বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য মামলায় গত ৬ সেপ্টেম্বর এমন রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ মামলায় রায় ঘোষণাকালে আদালতে আবেদনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। বিবাদীপক্ষে (ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স) ছিলেন আইনজীবী মো. জিসান মাহমুদ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তাসনুভা কায়সার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সিরাজুল করিম (রবি)।

রায়ে চেকের টাকা ও ব্যাংকের পাওনাদি পুরোপুরি পরিশোধ করে আপস-মীমাংসা করায় এ মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তির এক বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আপিলের আগে অধস্তন আদালতে জমা দেওয়া ১৪ হাজার ১০০ টাকা ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার পটভূমি: সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা মো. আবদুল হান্নান মাস্টার ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ২১ হাজার ৮৭৫ টাকা পরিশোধ করলেও বকেয়া ২৮ হাজার ১২৫ টাকার বিপরীতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, সিরাজগঞ্জ শাখার একটি চেক প্রদান করেন।

পরে ওই চেকটি নগদায়নের জন্য ২০০৯ সালের ১৯ জানুয়ারি ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে ১০ ফেব্রুয়ারি ‘পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায়’ তা ডিজঅনার হয়। আইনের বিধান অনুযায়ী লিগ্যাল নোটিশ জারির পরও টাকা না দেওয়ায় ২০০৯ সালে নালিশি সি.আর. মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি ২০১২ সালে বিচারের জন্য সিরাজগঞ্জের বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। আসামি পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য সম্পন্ন হয়। সিরাজগঞ্জের বিজ্ঞ দায়রা জজ ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রদত্ত রায়ে আসামিকে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৮৪ হাজার ৩৭৫ টাকা জরিমানা করেন।

পরবর্তীতে, আবদুল হান্নান মাস্টার ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ক্রিমিনাল আপিল দায়ের করে জামিন আবেদন করেন। হাইকোর্ট ২০১৮ সালের ৭ আগস্ট তাকে এক বছরের জন্য জামিন দেন। অত:পর, আপিল বিচারাধীন থাকাকালে চেকের অবশিষ্ট অর্থ ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে পরিশোধ করেন হান্নান মাস্টার। এ বিষয়ে চলতি বছরের ২১ জুলাই আবদুল হান্নান মাস্টার ও ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের মধ্যে আপোসনামা সই হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা: গত ৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া রায়ে হাইকোর্ট বলেন, মামলার তথ্য ও পারিপার্শ্বিকতা, অপরাধের মাত্রা এবং আপিলকারী কর্তৃক চেকের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের বিষয় বিবেচনা করে আসামি হান্নান মাস্টারকে দোষী সাব্যস্তকরণ বহাল রাখা হলো এবং অর্থদণ্ড ৮৪ হাজার ৩৭৫ টাকা থেকে কমিয়ে ২৮ হাজার ১২৫ টাকা করা হলো, যা চেকের অঙ্কের সমপরিমাণ।

আদালত আরও বলেন, এতে পরিলক্ষিত হয় যে, দণ্ডপ্রাপ্ত-আপিলকারী আপিল দায়েরের আগে বিচারিক আদালতে ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ১০০ টাকা জমা দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে অবশিষ্ট টাকা সরাসরি নালিশকারীর (ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স) কাছে জমা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যে, জমাকৃত ১৪ হাজার ১০০ টাকা যথাযথ শনাক্তকরণ সাপেক্ষে অবিলম্বে নালিশকারী ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া নথিপত্রসহ এই রায়ের অনুলিপি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হলো।

এ বিষয়ে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের আইনজীবী মো. জিসান মাহমুদ দেশকাল নিউজকে বলেন, আদালত এই রায়ের মাধ্যমে আইনি সুবিচারের সঙ্গে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অনন্য প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল পাওনা টাকা আদায় করা, কাউকে অহেতুক শাস্তি দেওয়া নয়। যেহেতু আপিলকারী চেকের পুরো অর্থ পরিশোধ করে দিয়েছেন এবং আপোসনামায় স্বাক্ষর করেছেন, তাই আমরা উদার মনোভাব নিয়ে তার কারাদণ্ড মওকুফের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছিলাম। বিজ্ঞ আদালত চেকের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড বহাল রেখে আপিলকারীর কারাদণ্ড বাতিল করায় আমরা কোনো ধরনের আপত্তি করিনি। বরং আদালতের এই ন্যায়বিচারকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই।


বিডিএলপিবি/এমএম

৮ সেপ, ২০২৬

বাংলাদেশে নির্বাসিত করা মুমতাজ বেগমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ গুয়াহাটি হাইকোর্টের

বাংলাদেশে নির্বাসিত করা মুমতাজ বেগমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ গুয়াহাটি হাইকোর্টের

কোলাজ ছবি 
গুয়াহাটি হাইকোর্ট আসাম সরকারকে মুমতাজ বেগমকে ২ লক্ষ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মুমতাজ বেগম একজন বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী, যাঁকে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ না দিয়েই বাংলাদেশে নির্বাসিত করা হয়েছিল। এই আদেশে বেগমকে বিদেশী নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

বেগমের পরিবারের দায়ের করা একটি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশনের শুনানির সময় বিচারপতি কল্যাণ রায় সুরানা এবং বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্ডের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পিটিশন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরই পরিবারটি জানতে পারে যে তাঁকে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করা হয়েছে।

নগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল যেভাবে বেগমের মামলাটি পরিচালনা করেছে, আদালত তার তীব্র সমালোচনা করে এবং পর্যবেক্ষণ করে যে, নথি থেকে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে "আইনের প্রতি বিদ্বেষ" স্পষ্ট বলে প্রতীয়মান হয়।

হাইকোর্টের পূর্ববর্তী একটি নির্দেশে মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার পর, গত ৩০ মে ট্রাইব্যুনাল বেগমকে বিদেশী হিসেবে ঘোষণা করে।  হাইকোর্ট এর আগে জানিয়েছিল যে, ট্রাইব্যুনাল তার দাখিল করা সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনা করেনি।

বেঞ্চ উল্লেখ করেছে যে, বেগমকে ৩০শে মে-র আদেশ সম্পর্কে জানানো হয়নি এবং এর পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, ফলে তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ পাননি। তার গ্রেপ্তারের সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং পুলিশের দেওয়া বিবরণ নিয়েও বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছে।

আদালত রায় দিয়েছে যে, ঘোষিত বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কার সংক্রান্ত আদর্শ কার্যপ্রণালীর (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) “সরাসরি লঙ্ঘন” হয়েছে। এই কার্যপ্রণালী অনুসারে, কোনো ব্যক্তিকে বহিষ্কার করার আগে তাকে অবশ্যই উপলব্ধ আইনি প্রতিকারগুলো শেষ করার সুযোগ দিতে হবে।

বেঞ্চ বলেছে, ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার অধিকার প্রয়োগ করতে বেগমকে রাজ্য প্রশাসন বাধা দিয়েছে। তাই আদালত আসাম সরকারকে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আদালত স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক বিভাগকে ট্রাইব্যুনালের ৩০ মে-র আদেশটি কখন ও কোন তারিখে প্রস্তুত করা হয়েছিল, তা তদন্ত করার নির্দেশও দিয়েছে। আদালত বলেছে, প্রয়োজনে মতামতটি কখন লেখা হয়েছিল তা নিশ্চিত করার জন্য ট্রাইব্যুনাল সদস্যের কম্পিউটার জব্দ করা যেতে পারে।

বেঞ্চ আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, জেলা পুলিশ সুপাররা যেন নিশ্চিত করেন যে, ঘোষিত বিদেশি নাগরিকদের হেফাজতে নেওয়ার আগে যেন ট্রাইব্যুনালের আদেশ সম্পর্কে জানানো হয়। ওই ব্যক্তিকে জেলা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আগে পরিবারের একজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকেও অবশ্যই জানাতে হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস (০৭.০৯.২০২৬)

৭ সেপ, ২০২৬

গভর্নর নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ

গভর্নর নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ

ছবি: সংগৃহীত 
অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

উল্লখ্য, গভর্নরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে তাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ যুক্ত করে অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন গত ৫ মার্চ রিটটি দায়ের করেন। রিটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে গভর্নর এবং গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে বিবাদী করা হয়।

আবেদনে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়। একইসঙ্গে গভর্নর নিয়োগ ও অপসারণের পৃথক গেজেটের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তার নেতৃত্বে ব্যাংক খাতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়।

২০২৮ সালের আগস্টে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এ বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনে মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ এবং আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সমকাল (০৭.০৯.২০২৬)

৬ সেপ, ২০২৬

মাজারে খাদেম হত্যার দায়ে দুই জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল, খালাস ৫

মাজারে খাদেম হত্যার দায়ে দুই জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল, খালাস ৫

ছবিঃ সংগৃহীত 
রংপুরের সুরেশ্বরী মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় জামাআতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার সময় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে মাজারের খাদেম রহমত আলীকে (৬০) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরদিন ১১ নভেম্বর তার ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ ওই মামলায় ১৪ জেএমবির সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। যার মধ্যে আসামি পঞ্চগড়ের নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান ২০১৬ সালের ১ আগস্ট রাতে রাজশাহীতে এবং কুড়িগ্রামের সাদ্দাম হোসেন ২০১৭ সালের ৫ জানুযারি ঢাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। শুনানি শেষে বিচারক নিহত দুই জঙ্গিকে বাদ দিয়ে ১২ জনের নামে অভিযোগ গঠন করেন।

  

বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ প্রথম আলো (০৬.০৯.২০২৬)


৪ সেপ, ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের নামে থাকা ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের (অবরুদ্ধ) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইসলামী ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর আবেদনের পর বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। 

বৃহস্পতিবার আদেশটির লিখিত অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী শিশির মনির। এ বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) তার ভেরিফাইড ফেইসবুক অ্যাকাউন্টেও একটি স্টাটাস দেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, আইন অনুসারে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার একই গ্রুপভুক্ত বা পারিবারিকভাবে রাখা যায় না। কিন্তু এস আলম সংশ্লিষ্ট ২৪ কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার হিসেবে ব্যাংকটিতে যুক্ত হয়। সেখানে তাদের শেয়ার ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ। 

এর আগে গত বছর, ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪ প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ও ব্যক্তিবিশেষের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ রাখতে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডার এই পরিচালকদের আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।



বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৪.০৯.২২০৬)

যৌনপল্লীতে তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে নারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

যৌনপল্লীতে তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে নারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি
ফরিদপুর শহরের রথখোলা যৌনপল্লীতে এক তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে মানবপাচার আইনের মামলায় তানিয়া আক্তার নামে এক নারীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া একই আইনের অপর একটি ধারায় তানিয়া আক্তারকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তানিয়া আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৬ ও ১১ ধারায় আসামিকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।

মামলার ফ্যাক্ট ও কার্যক্রম: মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়  ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী ঢাকার সাভারের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ২০২২ সালের ১৮ মার্চ তানিয়া আক্তার তাকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার যৌনপল্লীতে নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়।

পরে ২৫ মার্চ রাত দেড়টার দিকে ওই তরুণী ফরিদপুর র‍্যাবের ক্যাম্পে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে র‍্যাব সদস্যরা ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে তাকে যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় ২৫ মার্চ র‍্যাবের ফরিদপুর ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার শেখ ইসরাইল আমিন বাদী হয়ে তানিয়া আক্তারকে একমাত্র আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক প্রসাদ কুমার চাকী। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল তানিয়া আক্তারকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৪.০৯.২০২৬)